জামিল আহমদ টি-১২ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল সম্পন্ন                 মুক্তিযোদ্ধা আজির উদ্দিন’র রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন                 জলঢুপ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের অানন্দ ভ্রমন সম্পন্ন                 নৌকার শুক্কুর, ধানের শীষের পিন্টু, লাঙ্গল প্রতিক কার!                 বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ’র বাংলা বিভাগের শিক্ষাসফর অনুষ্ঠিত                 পাওলিনহোর হ্যাটট্রিকে উরুগুয়েকে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল                 শিববাড়িতে বাসা ভাড়া নেয় ‘জঙ্গিরা’ প্রাণ কোম্পানির এসআরের পরিচয়ে                
সর্বশেষ:

নিউইয়র্কে নিহত বন্ধু জাকির খাঁন স্মরণে-‘আসছি মোরা আর ক’টা দিন পরে’

: বিয়ানীবাজার কন্ঠ
Published: 11 03 2017     Saturday   ||   Updated: 11 03 2017     Saturday
নিউইয়র্কে নিহত বন্ধু জাকির খাঁন স্মরণে-‘আসছি মোরা আর ক’টা দিন পরে’

যতদুর জানি, বন্ধুটির দেশে ফেরার কথা ছিলো ২৮ শে মার্চ। কিন্তু চলে আসলো ২৬শে ফেব্রুয়ারী। কিছুদিন আগে ও নাকি সবাইকে বলে ছিলো ‘কাউকে না বলেই হঠাৎ দেশে চলে যাবো’। প্রতিবার আসার সময় নিজেই হাস্যেজ্জ্বল চেহারা নিয়ে প্লেনের ভিতর হাটাচলা করত-প্লেনের ভিতরেই অনেককে বন্ধু বানিয়ে ফেলতো-এই বন্ধুটিই এবার আসলো অন্য কয়েকজনের কাঁধে ভর করে, কোন কথা না বলে, নিথর দেহ।

গত ২৩শে ফেব্রুয়ারী যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মিশরীয় বাড়িওয়ালার হাতে খুন হন জাকির খাঁন, আমার প্রিয় এই বন্ধুটিকে মিশরীয় ঐ নরপিশাচ তার নিজ সন্তানের সম্মূখে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে, কি বর্বর! কি নির্মম! বন্ধুটির অকাল মৃত্যুতে স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, সবাই বজ্রপাতের মত ব্যথিত, মর্মাহত, এমন মৃত্যুতে কাউকে সান্তনা দিতে নেই, কাঁদতে দিতে হয়। স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে বারবার মনে পড়ছে জাকির, আব্দুল আহাদ, সারওয়ার, সুয়েব, মতিন, তাহির আলী, জামালসহ অসংখ্য সহপাঠিদের কথা। জাকির ছিলো লেখাপড়ায় অত্যন্ত উৎসাহী মনোযোগী। এসএসসিতে ১ম বিভাগ, তারপর নটরডেম কলেজ, অতঃপর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো, একাডেমিক রেজাল্ট যেমন ভালো ছিল, তেমনি ছিল সদালাপী হাস্যেজ্বল। দেশে থাকলে অনেক ভালো করতে পারত কিন্তু স্বপ্নের দেশ আমেরিকার রঙ্গিন হাতছানি তাকে দেশে থাকতে দিলনা। শেষ পর্যন্ত পৃথিবীতেই থাকতে দিলনা মিশরীয় বর্বরটি।
কিন্তু বন্ধুটি সুদূর আমেরিকায় গিয়েও নিজ যোগ্যতায় নিজেকে যথাস্থানে পৌছে দিয়েছিল, বাঙালী কমিউনিটিতে ছিলো খুবই পরিচিতি মুখ, জানাযার সারিতে যখন দাঁড়িয়েছি তখনই বিয়ানীবাজার থেকে নানু ভাই ফোন করে জানালেন উনার ছোট ভাই (আনোয়ার ভাই) জানাযায় গেছেন, জানাযার পর অনেক খোজাখুজি করে আনোয়ার ভাইকে জিজ্ঞাস করলাম, এতদূর থেকে আসলেন! উত্তর দিলেন, খুবই খোশ মেজাজের ভালো মানুষ। এমন আরো অনেক কমিউনিটি নেতা স্থানীয় সংসদসহ হাজারো মানুষ হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিয়ে গেলো, আমরা একজন ভালো মানুষকে হারালাম।
কাসিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম/৮ম শ্রেণীর ১ম দিকে ১০/১২ জনকে নিয়ে হাবিব স্যার আলাদা ক্লাস করানোর জন্য ডাকলেন। টিলার উত্তর দিকে নিচের অংশের একটি কক্ষে সবাই জড়ো হলাম, স্যার তখনো ক্লাসে আসেননি। পুরাতনকক্ষে কয়েকটি কাঁচের আলমীরা ছিলো, আমাদের সাথে সুয়েব ছিলো সবচেয়ে খাটো, সম্পর্কে নাতিও বটে। তাকে বললাম নাতি দেখিতো আলমারীতে জায়গা হয় কিনা, একটি কাচের আলমারীতে সুয়েব ঢুকতেই আমি বাহির থেকে ছিটকানী আটকে দিলাম, এমন সময় জাকির স্যার-স্যার বললে সুয়েব কে ঐ অবস্থায় রেখেই আমি স্যারের সামনে পড়তে বসলাম। কিছুক্ষন পর অক্সিজেনের অভাব বোধ করলে সুয়েব আলমীরার গ্লাসে কট কট শব্দ করল, হাবিব স্যার সব শুনলেন, অফিস কক্ষে সকল স্যারদের নিয়ে বৈঠককালে শুরু হলো জ্বালি’র অবর্ণনীয় বেত্রাঘাত, যেহেতু মূলহোতা ছিলাম ভাগে অনেক বেশী পেলাম। সেদিনও জাকিরের জন্য খারাপ লাগছিলো কারণ সে ছিলো খুব ফর্সা, বেত্রাঘাতে হাতগুলো হয়ে গিয়েছিলো রক্তিম। এমন অসংখ্য ঘটনা আছে যা বর্ণনা করে শেষ করার নয়। আজ প্রিয় বন্ধুটার কাছে সে দিনের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, আল্লাহ যেনো জাকির কে জান্নাতের শান্তিময় স্থানে রাখেন।
কয়েক বৎসর আগে জাকির একবার আমেরিকা থেকে আসলে, আমাকে ফোন দিয়ে বলল, তাহির আলীর সাথে দেখা করবে। আর্থিক অনটনের কারণে খেলাপড়া খুব একটা চালিয়ে যেতে পারেনি তাহির আলী, শুরু করলো পানের ব্যবসা, জাকিরকে নিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জে পূর্ববাজারে গেলে তাহির আলীর পানের ভাঙ্গা চৌকিতে বসে পিঠে হাত দিয়ে জিজ্ঞাস করল “তাহির আলী লজ্জিত হয়ে অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাতে লাগল, তাকে স্বাভাবিক করতে মনে করিয়ে দিলাম সেদিনকার বেত্রাঘাত থেকে একমাত্র রক্ষা পেয়েছিলো তাহির আলী, ভয়ে অত্যাধিক ক্রন্দনে বমি আসার কারণে।’
আমাদের আরেক সহপাঠি ও ভাতিজা জালাল, সেও আমেরিকায় থাকে, প্রায়ই অসুস্থ হলে একমাত্র জাকিরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা থেকে বাসায় দেওয়া পর্যন্ত সব করত। জালালের সমস্যা হলে জাকির অনেক সময় আমার সাথে শেয়ার করত, (এমন একটা বন্ধু হারালে অনেক কিছু হারায়, এমন একজন পিতা হারালে সবকিছু যেনো হারিয়ে যায়,) জাকিরের ভাই-বোন ও স্ত্রীর প্রতি থাকলো সহমর্মিতা, সন্তানদের প্রতি অনুরোধ, কাঁদতে থাক হৃদয় মন উজাড় করে। দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে বলতে থাকো আল্লাহ আপনি আমাদের বাবাকে শান্তিতে রাখুন। বাবা আমাদের জন্য অনেক করে গেছেন আমরা বাবার জন্য কিছুই করতে পারিনি। আল্লাহ বাবার ভূল ক্রটির জন্য আমরা আপনারা নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। (আমীন)

প্রিয় বন্ধু
একলা তুমি যাওনি কোথাও
অনেক গিয়েছে আগে
নিশ্চিত থেকো আসছি মোরা
আর ক’টা দিন পরে”

সৈয়দ মনিরুজ্জামান
ব্যবস্থাপক
মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিঃ
বিয়ানীবাজার শাখা।

Share Button
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •   
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



Share Button





March 2017
S S M T W T F
« Feb    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

devolop web-it-home, 2017